কারা অধিদপ্তরের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের কারা অধিদপ্তর সম্প্রতি রাজস্ব খাতভুক্ত ইউনিফর্মধারী পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারারক্ষী এবং মহিলা কারারক্ষী পদে মোট ৪৭২ জন প্রার্থী নিয়োগ দেওয়া হবে। এটি দেশের তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির সুযোগ, বিশেষ করে যাঁরা শারীরিকভাবে সক্ষম, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করতে আগ্রহী। বিজ্ঞপ্তিটি ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে টেলিটক পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।


কারা অধিদপ্তরের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শুধু একটি চাকরির সুযোগ নয়, বরং দেশের আইন-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থায় অবদান রাখার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। কারা বিভাগে কর্মরতরা মূলত কারাগারের ভেতর নিরাপত্তা, বন্দি ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রহরী কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশাসনিক নির্দেশ বাস্তবায়নে কাজ করেন। ফলে এই পদে নিয়োগ পেতে হলে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দৃঢ় মানসিকতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং দায়িত্ববোধও।


পদের সংখ্যা ও বেতন কাঠামো

কারা অধিদপ্তরের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দুটি প্রধান পদ রাখা হয়েছে। প্রথমটি কারারক্ষী, যেখানে ৪৫০টি শূন্য পদ রয়েছে। দ্বিতীয়টি মহিলা কারারক্ষী, যেখানে ২২টি শূন্য পদ রয়েছে। উভয় পদের বেতন স্কেল একই, যা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৯,০০০-২১,৮০০ টাকা এবং গ্রেড-১৭। এটি একটি স্থায়ী সরকারি চাকরি হওয়ায় চাকরির নিরাপত্তা, বেতন কাঠামো, ভবিষ্যৎ পদোন্নতি এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মোট পদের সংখ্যা ৪৭২টি। এই সংখ্যাটি দেখলেই বোঝা যায়, কারা অধিদপ্তর এবার তুলনামূলকভাবে বড় নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। যাঁরা এসএসসি বা সমমান পাস এবং শারীরিক যোগ্যতা পূরণ করেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার তরুণদের কাছে এই ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ এখানে উচ্চশিক্ষার তুলনায় শারীরিক সক্ষমতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।


শিক্ষাগত যোগ্যতা

কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী—উভয় পদের জন্যই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। অর্থাৎ এই পদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক বা স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। যারা শুধু এসএসসি পাস করেও সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।

তবে শুধু পাস করলেই হবে না; আবেদনকারীর তথ্য নির্ভুল হতে হবে এবং আবেদনপত্রে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রার্থীরা অতিরিক্ত কোনো যোগ্যতা থাকলেও তা গোপন রাখেন বা ভুল তথ্য দেন। কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কোনো তথ্য গোপন করা হলে ভবিষ্যতে তা প্রমাণিত হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব সনদ ও তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।


বয়সসীমা ও নাগরিকত্ব

প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির অনলাইন আবেদনের কপি/স্লিপ থাকতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, ০১.০৪.২০২৬ তারিখে আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়।

এই বয়সসীমা এই নিয়োগকে আরও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সাধারণত ইউনিফর্মধারী বাহিনীর ক্ষেত্রে তরুণ বয়সের প্রার্থীই বেশি উপযোগী বলে বিবেচিত হয়, কারণ এই পেশায় নিয়মিত দৌড়, টহল, প্রহরা, ভার বহন এবং শারীরিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন হয়। তাই বয়সসীমা ছোট রাখা হয়েছে, যাতে উপযুক্ত ও কর্মক্ষম প্রার্থী বাছাই করা যায়। বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে, এবং নথি অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে।


বৈবাহিক অবস্থা ও অন্যান্য শর্ত

কারা অধিদপ্তরের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির একটি বিশেষ শর্ত হলো প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। এটি অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে, কারণ সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের শর্ত থাকে না। কারা বিভাগে চাকরির ধরন, কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা, আবাসিক পরিবেশ, ডিউটি শিডিউল এবং দায়িত্বের প্রকৃতি বিবেচনায় এমন শর্ত দেওয়া হয়ে থাকে।

এছাড়া সরকারি, আধাসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময় অবশ্যই অনুমতিপত্র দেখাতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট আবেদন সরাসরি বাতিল হবে। এসব শর্ত দেখিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে চেয়েছে।


শারীরিক যোগ্যতা

এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শারীরিক মানদণ্ড। কারণ কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী পদটি একটি ইউনিফর্মধারী ও শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর চাকরি। পুরুষ কারারক্ষীর জন্য ন্যূনতম উচ্চতা ১.৬৭ মিটার বা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হতে হবে। বুকের মাপ হতে হবে ন্যূনতম ৮১.২৮ সেন্টিমিটার বা ২ ফুট ৮ ইঞ্চি। ওজন হতে হবে ন্যূনতম ৫২ কেজি।

মহিলা কারারক্ষীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম উচ্চতা ১.৫৭ মিটার বা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, বুকের মাপ ৭৬.৮১ সেন্টিমিটার বা ২ ফুট ৬.২৪ ইঞ্চি, এবং ওজন ন্যূনতম ৪৫ কেজি হতে হবে। এসব শারীরিক শর্ত থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, এখানে শুধু কাগজে-কলমে যোগ্যতা নয়, বাস্তবিক শারীরিক সক্ষমতাও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

এই শারীরিক মানদণ্ড প্রাথমিক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রার্থী হয়তো লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও শারীরিক মাপ ঠিক না থাকলে শুরুতেই বাদ পড়তে পারেন। তাই আবেদন করার আগে নিজের উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, দৌড়ান বা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য এই চাকরির উপযোগিতা বেশি।


আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে। এর জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইট হলো https://prison.teletalk.com.bd। আবেদন শুরুর তারিখ ০৯.০৪.২০২৬ সকাল ১০:০০ ঘটিকা এবং শেষ তারিখ ৩০.০৪.২০২৬ বিকাল ০৫:০০ ঘটিকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন শেষ করতেই হবে, কারণ পরে আর সুযোগ থাকবে না।

আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রার্থীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে হবে। আবেদনপত্রে সদ্যতোলা রঙিন ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবির মাপ ৩০০x৩০০ পিক্সেল এবং স্বাক্ষরের মাপ ৩০০x৮০ পিক্সেল হতে হবে। ছবির সর্বোচ্চ সাইজ ১০০ কেবি এবং স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ সাইজ ৬০ কেবি।

অনেকেই অনলাইনে আবেদন করার সময় ছবি বা স্বাক্ষরের ভুল ফরম্যাট আপলোড করেন, ফলে পরে ঝামেলায় পড়েন। তাই আবেদন করার আগে ছবি ও স্বাক্ষর সঠিকভাবে প্রস্তুত করে রাখা উচিত। আবেদনপত্র পূরণ করার পরে অবশ্যই আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ পরবর্তীতে পরীক্ষার সময় বা যাচাইয়ের সময় এটি কাজে লাগবে।


পরীক্ষার ফি ও এসএমএস পদ্ধতি

আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা, এবং টেলিটক চার্জসহ মোট ৫৬ টাকা। আবেদনকারীকে দুটি এসএমএস পাঠিয়ে এই ফি পরিশোধ করতে হবে। প্রথমে PRISON <User ID> লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। এরপর ফিরতি মেসেজে যে PIN আসবে, তা ব্যবহার করে PRISON YES <PIN> লিখে আবার ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

এসএমএস পদ্ধতি সহজ হলেও এতে একটি ভুল হলে আবেদন সম্পন্ন নাও হতে পারে। তাই User ID এবং PIN সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। দ্বিতীয় এসএমএস সফলভাবে পাঠানোর পরেই আবেদন গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। যদি ফি জমা না দেওয়া হয়, তাহলে অনলাইন ফর্ম পূরণ করলেও তা বাতিল হয়ে যাবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর ছবিসহ Applicant’s copy দেখা যাবে। যদি কোনো তথ্য ভুল থাকে বা ছবি অস্পষ্ট হয়, তবে ফি জমা দেওয়ার আগে তা সংশোধন করা যাবে। কিন্তু ফি জমা দেওয়ার পর আর কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই চূড়ান্ত সাবমিশনের আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।


পরীক্ষাপদ্ধতি

কারারক্ষী নিয়োগ ২০২৬ একাধিক ধাপে প্রার্থীদের যাচাই করা হবে। প্রথম ধাপে থাকবে প্রাথমিক শারীরিক যোগ্যতা যাচাই, যার মধ্যে দৌড়, পুশ-আপ, হাই জাম্প, লং জাম্প, রোপ ক্লাইম্বিং এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত। এই ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল লিখিত (MCQ) পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

কারারক্ষী নিয়োগ ২০২৬ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময় আবেদনপত্রে উল্লিখিত তথ্যের সত্যতা প্রমাণে মূল সনদপত্র দেখাতে হবে। এর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, অবিবাহিত সনদ এবং সংশ্লিষ্ট কোটার সনদ থাকতে পারে।

এখানে বোঝা যায়, পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ কঠোর ও ধাপে ধাপে সাজানো। শারীরিক সক্ষমতা, লিখিত মেধা এবং মৌখিক বাচনভঙ্গি—সব মিলিয়ে প্রার্থীকে মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই কারণেই প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শুধু MCQ পড়লেই চলবে না; শারীরিক অনুশীলন এবং নথিপত্রের প্রস্তুতিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


কোটার নিয়ম ও নথিপত্র

কারারক্ষী নিয়োগ ২০২৬ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোটা সংক্রান্ত সরকারের সর্বশেষ সার্কুলার ও বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা অন্যান্য প্রযোজ্য কোটার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সনদপত্র থাকতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময় এসব সনদের সত্যায়িত কপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে প্রমাণের জন্য সরকারের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও প্রতিস্বাক্ষরিত সনদপত্র দরকার হবে। এছাড়া পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ ও সম্পর্ক-প্রমাণপত্রও লাগতে পারে। তাই যারা কোটা সুবিধা নিতে চান, তাদের এখন থেকেই কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত।


ভুয়া তথ্য ও শাস্তির বিধান

কারা অধিদপ্তরের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ  বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো তথ্য বা কাগজপত্র জাল, মিথ্যা বা ভূয়া প্রমাণিত হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে। এমনকি নিয়োগের পরও যদি প্রমাণ হয় যে তথ্য মিথ্যা ছিল, তাহলে নিয়োগাদেশ বাতিল এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে নকল বা প্রক্সি প্রার্থী ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ধরনের কড়া শর্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় ভুয়া সনদ, বয়স জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের ঘটনা দেখা যায়। কারা অধিদপ্তর এই বিজ্ঞপ্তিতে সেসবের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তাই প্রার্থী হিসেবে সৎ থাকা এবং প্রকৃত তথ্য দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।


স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট

নিয়োগপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। যদি কেউ এই পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষিত হন বা ডোপ টেস্টের রিপোর্ট সন্তোষজনক না হয়, তাহলে তার নিয়োগাদেশ বাতিল হবে। এই শর্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট পদে মাদকমুক্ত ও সুস্থ প্রার্থীই উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন।

এতে বোঝা যায়, শুধু লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করলেই হবে না; শেষ পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ উপযুক্ত হতে হবে। সুতরাং যারা এই চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জীবনযাপনও শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে।


ভাতা, যোগাযোগ ও চূড়ান্ত নির্দেশনা

নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো যাতায়াত ভাতা (TA) বা দৈনিক ভাতা (DA) প্রদান করা হবে না। অর্থাৎ পরীক্ষার জন্য প্রার্থীকে নিজের খরচে আসা-যাওয়া করতে হবে। প্রবেশপত্র, পরীক্ষার তারিখ, কেন্দ্র, সময় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসএমএস ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হবে। তাই আবেদনকালে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রবেশপত্র User ID ও Password ব্যবহার করে ডাউনলোড করতে হবে এবং রঙিন প্রিন্ট নিয়ে রাখতে হবে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে এটি দেখাতে হবে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে টেলিটকের নির্ধারিত সাপোর্ট চ্যানেল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।


প্রার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ

যাঁরা এই নিয়োগে আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য কয়েকটি বাস্তব পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা, বয়স, উচ্চতা, ওজন ও শিক্ষাগত সনদ সবকিছু মিলিয়ে নিন। দ্বিতীয়ত, শারীরিক প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করুন, বিশেষ করে দৌড়, পুশ-আপ, লং জাম্প, হাই জাম্পের অনুশীলন করুন। তৃতীয়ত, আবেদন ফর্ম পূরণের সময় কোনো তথ্য ভুল দেবেন না, কারণ একবার ফি জমা দেওয়ার পর সংশোধনের সুযোগ নেই।

চতুর্থত, ছবি, স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই স্ক্যান করে রাখুন। পঞ্চমত, User ID, PIN, Password, আবেদন কপি এবং প্রবেশপত্র সবকিছু আলাদা ফাইলে সংরক্ষণ করুন। শেষত, পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত প্রস্তুতি নিন। কারণ এই ধরনের নিয়োগে প্রতিযোগিতা সাধারণত তীব্র হয়।


উপসংহার

কারা অধিদপ্তরের কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগ। কম শিক্ষাগত যোগ্যতায় সরকারি চাকরির স্বপ্ন পূরণের বাস্তব পথ এটি। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে, নথিপত্র ঠিক রাখতে হবে, শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকতে হবে।

যারা নিয়ম মেনে, সঠিক তথ্য দিয়ে এবং পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগোবেন, তাঁদের জন্য এই নিয়োগ হতে পারে একটি স্থিতিশীল ও সম্মানজনক ক্যারিয়ারের শুরু। বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে যারা শৃঙ্খলা, দায়িত্ব এবং নিরাপত্তামূলক কাজে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত সরকারি পেশা।

Post a Comment

Previous Post Next Post